এক কাপ চা’য়ে আমি তোমাকে চাই, চায়ের কাপ হাতে নিয়েই চলে বাঙালির নানা তর্ক বিতর্ক কিন্তু বাঙালি চা প্রেমী কোনওদিনই ছিল না। ইংরেজরা এ দেশে আসার পরেই বাঙালির রক্তে মেশে চা’য়ের নেশা। বাঙালি চা চাতাল হওয়ার আগে দিন গুলি ছিলো অন্য রকম তখন চা মানে ওষুধ । রীতিমত বিজ্ঞাপন দিয়ে ইংরেজরা বাঙালিকে চা খাওয়াতে শেখায়। ঐতিহাসিকরা বলছেন, এসবই ইংরেজদের ‘কারসাজি’। সে দেশে চায়ের নেশা এদেশে এসে ছাড়ে কি করে! শিখিয়ে দাও বাঙালিগুলোকে। এমনই ধরে যাবে চায়ের নেশা।আর শেষ পর্যন্ত চায়ের নেশা ধরেও যায় । চা মাতালদের চা সংস্করণ আর কী ।
বর্তমানে বাঙালিকে চা চাতাল বলা হয় আর বলবে নাই বা কেন ? সকালে উঠে এককাপ চা না খেলে বাঙালির ঘুমটাই নাকি কাটতে চাই না । এছাড়া অফিসে গিয়ে একঘণ্টা অন্তর-অন্তর চা, বাড়ি ফেরার পথে চেনা দোকানের চা, বাড়ি ফিরে এসে মুড়ির সঙ্গে চা, সন্ধেবেলায় আড্ডায় গিয়ে চা, রাতে ডিনার সারার আগে দিনে শেষবারের মতো চা। বৃষ্টি হোক বা গরম পকোরার সাথে আমেজটাই পাল্টে দেয় কেউ লিকার চা পছন্দ করেন কেউ আদা দেওয়া তুলসী চা । আড্ডা প্রিয় বাঙালির আড্ডা জমানোর সব থেকে বড় পানীয় চা । চা খেতে পছন্দ করেন না এমন বাঙালি খুব কম আছেন ।
তবে অনেকের ভ্রান্ত ধারণা চা খেলে নাকি ঠোঁট এবং গায়ের রং কালো হয়ে যায় । ছোট বেলায় মা ঠাকুর মা বারণ করতেন চা খেতে । আচ্ছা খেলে যদি গায়ের রং কালো হয়ে যেত তাহলে ইংরেজ ও আইরিশদের গায়ের রং আগেই পাল্টে যেত তাই না ! আসলে কে ফর্সা হবে কে কালো তা অনেকাংশেই নির্ভর করে ত্বকের অন্দরে থেকে থাকা মেলানীনের ওপর সুতরাং চা খেলে কালো হবো এই ধারণাটা ভ্রান্ত ।
বিবেকানন্দের চা প্রেমের খবর মেলে তাঁর ছোট ভাই মহেন দত্তের লেখায়। কবিগুরুর চা চক্র বা চাক্র বিখ্যাত। অসম,দার্জিলিং ভরে যায় চা বাগানে। ১৯০০ সালে তো জনৈক গিরীশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় “চা প্রস্তুত প্রণালী শিক্ষা” নামে ১১২ পাতার বই লিখে ফেলেছিলেন।
কলকাতার জনতা কারফু এর দিন একটি ভিডিও ভীষণ ভাবে ভাইরাল হয়েছিল ,যেখানে একাধিক মানুষ জটলা বেঁধে চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলেন । আর সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই জনপ্রিয় হয়ে যান মৃদুল বাবু । পরিচিতি পান চা কাকু বলে তৈরি হয় মিম--
"চা খাবোনা আমরা
খাবোনা আমরা চা "
পড়ে আবার গুজরানের মাটি কাটার ভিডিও ভাইরাল হতে সৌরভ গাঙ্গুলী মৃদুল বাবুর পাশে এসে দাঁড়ায় ।
লকডাউনে অনেকেই সবচেয়ে বেশি মিস করেছেন চা-কে । সবাকে বাড়ির চা খেয়েও পাড়ার দোকানে মাটির ভাড়ে মোটেই চলে না বাঙালির । চাল ডালের মতো চা-ও যে বাঙালির কাছে এসেনশিয়াল । করোনা সংত্রুমণ থেকে মুক্তি পাক মানব জীবন এটা সবারই মুখে মুখে । তবে মনের কথা শেয়ার করার জন্য বাঙালির প্রিয় জায়গাই হলো চায়ের দোকান ।তাই লকডাইন শিথিল হতেই চায়ের দোকানে আড্ডায় মেতেছে বাঙালি ।
নৈহাটি আর দমদমের এক এবং তিন নম্বর প্লাটফর্মে এখনও বর্তমান সেই পুরনো দিনের কথা। যা অনেক ইতিহাসের কথা বলে, এখন মোড়ের মাথায় মাথায় চায়ের দোকান। টি-জাঙ্কশন থেকে শুরু করে গঙ্গাধরের চায়ের দোকান। বলা যেতে পারে এক কাপ চা ছাড়া বাঙালি অপূর্ণ।
আসলে চা ,
এমন একটা খাদ্য যা সকলের পানীয় ,
রাত হোক কিংবা দিন, বাঙালির কাছে এটাই নিকোটিন ।
দোকানী তার চা বানিয়ে পেট চালায়,
চা কী জিনিস বুঝবে আস্ত ,যখন বাঁধবে গলায় ।।
![]() |
| সম্পা সাহা |
সাহিত্যের সন্ধানে'র সাপ্তাহিক ব্লগ প্রতিবেদন
কৌশিক দে (সম্পাদক )
অমৃতা রায় চৌধুরী, সম্রাট দে , অসীম দাস ( সহ সম্পাদক মন্ডলী )


No comments:
Post a Comment